ঐতিহাসিক জিএসটি সংস্কার

কিরেণ রিজিজু কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী মোদীর অরুণাচল সফর ও ঐতিহাসিক জিএসটি সংস্কারের প্রশংসা

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের ইন্দিরা গান্ধী পার্কে সোমবার এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। তাঁর ভাষণে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অরুণাচল সফরকে শুধুমাত্র রাজ্যের জন্য নয়, বরং সমগ্র দেশের জন্য একটি “ঐতিহাসিক” ও “পবিত্র” ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এই সফর থেকে তিনি নতুন জিএসটি সংস্কারগুলির ঘোষণা করেন, যা বহু দিক থেকে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তাঁর বিশ্বাস। এই ঐতিহাসিক জিএসটি সংস্কার নিয়ে তাঁর বক্তব্য দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

ঐতিহাসিক জিএসটি সংস্কারের গুরুত্ব

  • জাতীয় জীবনে এক নতুন মাইলফলক: কিরেণ রিজিজু নতুন জিএসটি সংস্কারকে “ঐতিহাসিক মাইলফলক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে স্বচ্ছতা আসবে। এই সংস্কারগুলি দীর্ঘকাল ধরে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবে এবং আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও সরল ও কার্যকর করে তুলবে।
  • অরুণাচল প্রদেশ থেকে সূচনা: তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলির সূচনা অরুণাচল প্রদেশ থেকে হয়েছে, যা একটি প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে। অরুণাচল প্রদেশ হলো দেশের সেই পূর্বতম রাজ্য, যেখানে সূর্য প্রথম কিরণ ছড়ায়। এই রাজ্য থেকে জিএসটি সংস্কারের সূচনাকে তিনি দেশের জন্য একটি শুভ সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
  • দরিদ্র মানুষের জন্য সুফল: রিজিজু দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন যে, এই ঐতিহাসিক জিএসটি সংস্কার সারা দেশের লক্ষ লক্ষ দরিদ্র মানুষের জীবনে “উল্লেখযোগ্য সুফল” নিয়ে আসবে। তিনি এই সংস্কারগুলিকে নবরাত্রির পবিত্র উৎসবে জাতির জন্য একটি “ঐতিহাসিক উপহার” হিসেবে বর্ণনা করেন, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে। এই সংস্কারগুলির মূল লক্ষ্য হলো আর্থিক বৈষম্য হ্রাস করা এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলা।
  • দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তন: জিএসটি ব্যবস্থার এই নতুন রূপরেখা দেশের কর ব্যবস্থাকে আরও সরল, স্বচ্ছ এবং উন্নত করবে। এটি শুধুমাত্র কর সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে সহজ করবে না, বরং কর ফাঁকি রোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই ঐতিহাসিক জিএসটি সংস্কার অর্থনৈতিক কার্যকলাপকে ত্বরান্বিত করবে এবং বিনিয়োগের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে। এটি ছোট এবং মাঝারি উদ্যোগগুলিকে বিশেষ সহায়তা প্রদান করবে, যা দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড।
  • ডিজিটাল ইন্ডিয়া এবং জিএসটি সংস্কার: প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল ইন্ডিয়া উদ্যোগের সঙ্গে এই ঐতিহাসিক জিএসটি সংস্কার ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এই সংস্কারগুলি ডিজিটাল লেনদেনকে উৎসাহিত করবে এবং দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করে তুলবে। এর ফলে দেশের আর্থিক কাঠামো আরও সুসংহত এবং কার্যকর হবে। এটি ভারত সরকারের ‘সর্বোচ্চ শাসন, ন্যূনতম সরকার’ নীতিকে সমর্থন করবে এবং প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস করবে।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর অরুণাচল সফর

কিরেণ রিজিজু তাঁর ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অরুণাচল প্রদেশ সফরকে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বারবার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই সফর অরুণাচলের জনগণের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরটি রাজ্যের উন্নয়নের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।

  • রাজ্যের উন্নয়নে জোর: মোদীর সফরের সময় তিনি অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সূচনা ও শিলান্যাস করেন। এর মধ্যে রয়েছে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং পর্যটন সম্পর্কিত প্রকল্প। এই প্রকল্পগুলি রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে গতি আনবে।
  • ঐতিহাসিক সম্পর্কের বন্ধন: প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং অরুণাচল প্রদেশের জনগণের মধ্যে একটি বিশেষ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে রিজিজু বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই অঞ্চলের প্রতি একটি বিশেষ মমতা রাখেন। এই সফরটি সেই সম্পর্কের গভীরতাকে আরও দৃঢ় করেছে। এই সফরটি প্রমাণ করে যে, কেন্দ্রীয় সরকার উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নের বিষয়ে কতটা আগ্রহী এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
  • জাতীয় ঐক্য ও সংহতি: এই সফর জাতীয় ঐক্য ও সংহতির বার্তাও বহন করে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বারবার বলেছেন যে, দেশের প্রতিটি কোণে উন্নয়ন সমানভাবে পৌঁছানো উচিত। অরুণাচল প্রদেশ সফর তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। এই সফরটি দেশের পূর্বতম প্রান্তের জনগণের কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে যে, তারা দেশের মূল স্রোতের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

কিরেণ রিজিজুর এই বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট যে, কেন্দ্রীয় সরকার দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষত, নতুন জিএসটি সংস্কারগুলি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের প্রতিটি স্তরের মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই সংস্কারগুলি শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াবে না, বরং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ন্যায়সঙ্গত সমাজ গঠনেও সহায়তা করবে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর অরুণাচল সফর এবং সেখান থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলির ঘোষণা দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, দেশের প্রতিটি অঞ্চলের উন্নয়নে সরকার সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। এই ঐতিহাসিক জিএসটি সংস্কার দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’ এর স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে সহায়তা করবে। এই পদক্ষেপের ফলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। এই সংস্কারগুলি দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে এবং বৈষম্য দূর করতে সহায়তা করবে।

SHARE

Discover more from RastriyaSamachar24x7

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

2 thoughts on “কিরেণ রিজিজু কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী মোদীর অরুণাচল সফর ও ঐতিহাসিক জিএসটি সংস্কারের প্রশংসা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *