কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি

গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত: পাটনায় কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির ঐতিহাসিক বৈঠক

পাটনা, বিহার – এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে সাক্ষী থাকল কংগ্রেসের বিহার সদর দফতর সাদাকাত আশ্রম। আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার সকালে এখানে শুরু হয় কংগ্রেসের শীর্ষ নীতি-নির্ধারণকারী সংস্থা কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি (CWC) -এর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। দলীয় প্রধান মল্লিকার্জুন খাড়গে বৈঠকের আগে সাদাকাত আশ্রমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এই বৈঠককে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে দলের নেতারা জানান, এর মাধ্যমে গণতন্ত্র রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়েছে।

  • কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের উদ্দেশ্য:
    • মূলত, ২০২৫ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য বিহার বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় কৌশল নির্ধারণ করা।
    • ভোটার তালিকা থেকে ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ নিয়ে জনগণকে সচেতন করা।
    • গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার বার্তা দেওয়া।
    • সর্বভারতীয় স্তরে দলের অবস্থান শক্তিশালী করা।
  • বৈঠকে উপস্থিত শীর্ষ নেতৃত্ব:
    • কংগ্রেস প্রধান মল্লিকার্জুন খাড়গে।
    • শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী।
    • দলের সাধারণ সম্পাদক কেসি ভেনুগোপাল।
    • পবন খেরা, ভূপেশ বাঘেল, রাজেশ রাম, কৃষ্ণ আল্লাভারু এবং শাকিল আহমেদ খান সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা।

কংগ্রেস নেতা পবন খেরা এই বৈঠককে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “সাদাকাত আশ্রম হল একটি ঐতিহাসিক স্থান যা স্বাধীনতা আন্দোলনের অংশ ছিল। এই স্থান থেকে যে বার্তা দেওয়া হবে, তা গণতন্ত্রের সুরক্ষার জন্য একটি ঐতিহাসিক বার্তা।”

  • ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব:
    • কংগ্রেস নেতা গুলাম আহমেদ মীর এই বৈঠককে ‘ঐতিহাসিক দিন’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জানান, স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার পাটনায় কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির এত বড় বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
    • তিনি আরও বলেন, এই বৈঠকটি বিহারকে সমগ্র দেশের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
    • রাহুল গান্ধীর ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। গুলাম আহমেদ মীর জানান, বিজেপি সরকার কীভাবে ভোটারদের তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে ভোট চুরি করার চেষ্টা করছে, তা মানুষকে বোঝানো হবে।
  • ভোট চুরি ও ভোটার সচেতনতা নিয়ে আলোচনা:
    • বৈঠকের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা ছিল রাহুল গান্ধীর উত্থাপিত ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ।
    • দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভোটার তালিকা থেকে ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
    • কংগ্রেসের লক্ষ্য হল, এই অন্যায়কে জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং প্রতিটি ভোটারকে সচেতন করা।

কংগ্রেসের এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন রাজনৈতিক মহলে বিহারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না আসার পর, কংগ্রেস সহ ইন্ডিয়া জোটের শরিকরা এখন বিহার বিধানসভা নির্বাচনে নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণে বদ্ধপরিকর। পাটনায় এই কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক সেই লক্ষ্যেরই প্রথম ধাপ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

  • রাজনৈতিক কৌশল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
    • বৈঠকে বিহারের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
    • দলীয় সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং তৃণমূল স্তরে পৌঁছানোর জন্য নতুন কৌশল নির্ধারণ করা হয়।
    • যুব সমাজ, কৃষক এবং মহিলাদের কাছে দলের বার্তা পৌঁছে দিতে বিশেষ কর্মসূচির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
    • ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কীভাবে নির্বাচনে লড়া হবে, সে বিষয়েও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কংগ্রেসের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে তারা বিহারকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং আসন্ন নির্বাচনে বড়সড় সাফল্য অর্জনের জন্য মরিয়া। সাদাকাত আশ্রমের এই বৈঠক কেবল একটি দলীয় মিটিং নয়, এটি বিহারের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে মনে করা হচ্ছে। কংগ্রেসের এই উদ্যোগ কতটা সফল হয়, তা সময়ই বলবে। তবে এই বৈঠক থেকে যে বার্তা এবং কৌশল বেরিয়ে এসেছে, তা বিহারের রাজনীতিতে একটি নতুন ঢেউ তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের তাৎপর্য:
    • এটি কেবল বিহার নয়, সমগ্র দেশের গণতন্ত্র রক্ষার জন্য একটি বার্তা বহন করে।
    • কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব একত্রিত হয়ে একটি নির্দিষ্ট রাজ্যের জন্য কৌশল নির্ধারণ করছেন, যা দলের ঐক্য ও সংকল্পের প্রতিফলন।
    • এই বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পথ খুলে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
    • এটি ভোটারদের কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেবে যে কংগ্রেস তাদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
    • ভোট চুরি রোধে জনগণকে সচেতন করতে এই বৈঠক একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

এই বৈঠক থেকে যে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে, তা দলীয় কর্মীরা দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির এই পদক্ষেপ বিহারের রাজনৈতিক সমীকরণে কী পরিবর্তন আনে, তা জানতে আগামী দিনগুলোতে আমাদের নজর রাখতে হবে।

  • উপসংহার:
    • পাটনার এই বৈঠক কংগ্রেসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
    • গণতন্ত্র রক্ষা এবং ভোটার সচেতনতা নিয়ে দলের যে অবস্থান, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে।
    • বিহার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
    • কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির এই বৈঠকটি নিঃসন্দেহে বিহারের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
SHARE

Discover more from RastriyaSamachar24x7

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *