বৈভবী মার্চেন্ট জাতীয় পুরস্কার

বৈভবী মার্চেন্টের ঐতিহাসিক জয়: জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত, বন্ধু রানি মুখার্জির ভালোবাসা!

  • দেশের চলচ্চিত্র জগতে একটি বিশেষ মুহূর্তে, প্রখ্যাত নৃত্য পরিচালক বৈভবী মার্চেন্ট তার অসাধারণ প্রতিভার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছেন। এটি তার কর্মজীবনের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যা তিনি তার প্রিয় বন্ধু ও অভিনেত্রী রানি মুখার্জির সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। রানির ফোনের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সেই বিশেষ মুহূর্ত, যেখানে বৈভবী রাষ্ট্রপতির হাত থেকে তার সম্মান গ্রহণ করছেন। এই বিজয় শুধু বৈভবীর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি বলিউড এবং তার শিল্পকলার প্রতি তার নিরলস নিষ্ঠারও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
  • এই আনন্দময় খবরটি বলিউড জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সবাই এই প্রতিভাকে অভিনন্দন জানাচ্ছে। এই পুরস্কার বৈভবীর দীর্ঘ এবং সফল কর্মজীবনের এক নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে। এই নিবন্ধে আমরা বৈভবী মার্চেন্ট জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্তির পেছনের গল্প, তার দীর্ঘদিনের বন্ধু রানি মুখার্জির ভূমিকা এবং তাদের সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে আলোচনা করব।

বৈভবী মার্চেন্টের দ্বিতীয় জাতীয় পুরস্কার

  • বৈভবী মার্চেন্ট জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন ‘রকি অর রানি কি প্রেম কাহানি’ ছবির ‘ধিন্ডোরা বাজে রে’ গানের কোরিওগ্রাফির জন্য। এই গানটি তার শৈল্পিক দক্ষতা এবং সৃজনশীলতার এক দারুণ উদাহরণ। গানের প্রতিটি ধাপে ছিল শক্তি, আবেগ এবং ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের এক নিখুঁত মিশ্রণ।
  • তবে এটি বৈভবীর প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নয়। তার প্রথম পুরস্কারটি এসেছিল ২৫ বছর আগে, ১৯৯৯ সালের ‘হাম দিল দে চুকে সনম’ ছবির ‘ঢোলি তারো ঢোল বাজে’ গানের জন্য। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মান পেয়ে বৈভবী নিজেকে কৃতজ্ঞ এবং সম্মানিত মনে করছেন। তার এই দীর্ঘ যাত্রাপথ প্রমাণ করে যে ধৈর্য এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে একজন শিল্পী তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে।
  • এই পুরস্কারের মধ্য দিয়ে বৈভবী আবারও প্রমাণ করলেন যে তিনি বলিউডের অন্যতম সেরা কোরিওগ্রাফার। তার কাজ শুধু দর্শকদের বিনোদন দেয় না, বরং এটি ভারতীয় সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের এক আধুনিক প্রতিফলনও বটে।

রানি মুখার্জির সঙ্গে বন্ধুত্ব

  • পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এক বিরল এবং হৃদয়গ্রাহী মুহূর্ত দেখা গেল যখন রানি মুখার্জি তার ফোনে বন্ধু বৈভবীর পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তটি ধারণ করছিলেন। রানি নিজেও একই অনুষ্ঠানে তার ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’ ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছিলেন। দুই বন্ধুর একই মঞ্চে দুটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পাওয়া তাদের বন্ধুত্বকে আরও মজবুত করেছে।
  • রানি এবং বৈভবীর বন্ধুত্ব বহু বছরের পুরোনো। তারা একে অপরের সাফল্যে সর্বদা আনন্দিত হন এবং কঠিন সময়ে পাশে থাকেন। রানির এই কাজটি প্রমাণ করে যে সত্যিকারের বন্ধুত্বে কোনো প্রতিযোগিতা থাকে না, থাকে কেবল একে অপরের প্রতি ভালোবাসা এবং সম্মান।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের বিস্তারিত

  • ৯৩তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। পুরস্কার প্রদান করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এই অনুষ্ঠানে দেশের সেরা শিল্পী, পরিচালক, এবং কলাকুশলীদের তাদের অবদানের জন্য সম্মান জানানো হয়।
  • বৈভবী যখন তার পুরস্কার গ্রহণ করতে মঞ্চে ওঠেন, তখন প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত সবাই তাকে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানান। এই মুহূর্তটি ছিল বৈভবীর জন্য এক স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত। এটি তার কাজের স্বীকৃতি এবং তার পেশার প্রতি ভালোবাসার প্রতিফলন।
  • এই পুরস্কার প্রাপ্তি বৈভবীকে আরও নতুন নতুন এবং অসাধারণ কাজ করার জন্য উৎসাহিত করবে। তার এই সাফল্য তরুণ প্রজন্মের কোরিওগ্রাফারদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

বৈভবীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

  • বৈভবী তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি দীর্ঘ নোট লিখে তার অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি তার পোস্টে বলেন, “এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পেয়ে আমি নিজেকে সম্মানিত এবং গর্বিত মনে করছি।” তিনি করণ জোহরকে ধন্যবাদ জানান, যিনি তাকে এই সুযোগ দিয়েছিলেন এবং তার প্রতি বিশ্বাস রেখেছিলেন।
  • তিনি তার সহকর্মী এবং টিমের সবাইকে ধন্যবাদ জানান, যারা এই গানটিকে সফল করতে সাহায্য করেছিলেন। এই পুরস্কারটি তাদের সবার কঠোর পরিশ্রমের ফল। তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্যে কোনো অহংকার ছিল না, ছিল কেবল বিনয় এবং তার শিল্পের প্রতি ভালোবাসা।
  • বৈভবীর এই বার্তাটি প্রমাণ করে যে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছানোর পরেও একজন শিল্পী কীভাবে বিনয়ী থাকতে পারে। তার এই মানবিক গুণ তাকে আরও বেশি জনপ্রিয় করেছে।

সারসংক্ষেপ

  • বৈভবী মার্চেন্ট জাতীয় পুরস্কার জয় আমাদের সবাইকে মনে করিয়ে দেয় যে শিল্পকলার কোনো শেষ নেই এবং কঠোর পরিশ্রম এবং নিষ্ঠার ফল সবসময় মিষ্টি হয়। তার এই সাফল্য বলিউডের কোরিওগ্রাফি শিল্পে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। রানি মুখার্জির মতো বন্ধু পাশে থাকা তার এই যাত্রাকে আরও অর্থপূর্ণ করে তুলেছে। তাদের এই সম্পর্কটি যেন এক অসাধারণ ভালোবাসার গল্প। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে বৈভবী মার্চেন্ট জাতীয় পুরস্কারের মতো আরও অনেক সাফল্য অর্জন করবেন এবং বলিউডকে আরও নতুন নতুন সৃষ্টি উপহার দেবেন। তার এই জয় দেশের প্রতিটি শিল্পীর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
SHARE

Discover more from RastriyaSamachar24x7

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

One thought on “বৈভবী মার্চেন্টের ঐতিহাসিক জয়: জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত, বন্ধু রানি মুখার্জির ভালোবাসা!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *