ত্রিপুরা রাজ্যের মেডিকেল শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন (NMC) ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ ও ড. বি. আর. আম্বেদকর মেমোরিয়াল টিচিং হাসপাতালে (TMC) অতিরিক্ত ৫০টি এমবিবিএস আসন বৃদ্ধির অনুমোদন দিয়েছে। এই অনুমোদনের ফলে TMC-তে এমবিবিএস ভর্তির আসন সংখ্যা ১০০ থেকে বেড়ে ১৫০-এ উন্নীত হয়েছে, যা রাজ্যের চিকিৎসাবিদ্যা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করেছে।
এই উল্লেখযোগ্য ত্রিপুরায় এমবিবিএস আসন বৃদ্ধি রাজ্যের মোট এমবিবিএস আসন সংখ্যাকে ৪৫০-এ নিয়ে গিয়েছে, যা রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর প্রসারে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর উচ্ছ্বাস ও কেন্দ্রীয় সমর্থনকে কৃতজ্ঞতা
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ড. মানিক সাহা, যিনি নিজেও একজন চিকিৎসক, এই ঘটনাকে রাজ্যের মেডিকেল শিক্ষা প্রত্যাশীদের জন্য “আরেকটি দারুণ খবর” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে তাঁর সরকার স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষাগত পরিকাঠামো উন্নত করার জন্য ক্রমাগত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ড. মানিক সাহা তাঁর বক্তব্যে গত তিন বছরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন:
- ঐতিহাসিক অর্জন: গত তিন বছরে রাজ্যে মোট ২২৫টি এমবিবিএস আসন যোগ করা হয়েছে।
- লক্ষ্য ও সাধনা: এই অর্জনটি মেডিকেল শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করার জন্য সরকারের নিরন্তর প্রচেষ্টার একটি প্রমাণ।
- কেন্দ্রীয় সহযোগিতা: ড. সাহা প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী শ্রী জে. পি. নাড্ডার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ত্রিপুরার স্বাস্থ্য খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কেন্দ্র সরকারের অবিচল সমর্থন ও নির্দেশনা অনস্বীকার্য।
এই ত্রিপুরায় এমবিবিএস আসন বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের সদিচ্ছা এবং রাজ্য সরকারের লক্ষ্যভেদী নীতির প্রতিফলন।
“ত্রিপুরায় এমবিবিএস আসন বৃদ্ধি”: সুযোগ ও প্রভাব
আসন সংখ্যা বাড়ার এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র সংখ্যাগত বৃদ্ধি নয়, বরং এর সুদূরপ্রসারী সামাজিক ও পেশাগত প্রভাব রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সাহা জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের কারণে:
- সুযোগের সম্প্রসারণ: ত্রিপুরা থেকে আসা উচ্চাকাঙ্ক্ষী ডাক্তারদের জন্য আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টি হবে।
- পেশাদারদের চাহিদা পূরণ: এই বৃদ্ধি গোটা অঞ্চল জুড়ে দক্ষ স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।
- স্বাস্থ্য পরিকাঠামো জোরদার: যত বেশি সংখ্যক চিকিৎসক তৈরি হবে, ততই প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।
মেডিকেল কলেজের আসন বৃদ্ধির ফলে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় মানবসম্পদের যে ঘাটতি ছিল, তা পূরণ হওয়ার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সূচিত হলো। রাজ্যের স্বাস্থ্যখাতকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার লক্ষ্যে এটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ।
মেডিকেল শিক্ষা প্রত্যাশীদের জন্য নতুন আশা
মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রতিযোগিতায় যেখানে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী অংশ নেয়, সেখানে অতিরিক্ত ৫০টি আসনের অনুমোদন ত্রিপুরার শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অমূল্য উপহার। এই ত্রিপুরায় এমবিবিএস আসন বৃদ্ধি শুধুমাত্র ৫০টি পরিবারের স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করবে না, বরং আগামী দিনে এই ডাক্তাররা রাজ্যের মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করবেন।
শিক্ষাবিদ এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজ্য সরকার স্বাস্থ্যখাতকে যে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে, এটি তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত। শিক্ষাগত সুযোগের এই সম্প্রসারণ রাজ্যের তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করবে এবং তাদের উচ্চশিক্ষার জন্য অন্য রাজ্যে যাওয়ার প্রবণতা কমাবে।
এই ত্রিপুরায় এমবিবিএস আসন বৃদ্ধি নিশ্চিতভাবে ত্রিপুরাকে উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি আঞ্চলিক স্বাস্থ্য ও শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সরকার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত, এই অতিরিক্ত আসনের জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামো, ফ্যাকাল্টি এবং উন্নত শিক্ষার মান বজায় রাখা।
ড. মানিক সাহার নেতৃত্বাধীন সরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষাকে উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করে চলেছে। এই সাফল্যের জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি তার কৃতজ্ঞতা রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের গুরুত্বকেও তুলে ধরে।
Discover more from RastriyaSamachar24x7
Subscribe to get the latest posts sent to your email.