ত্রিপুরার হেজামারা কমিউনিটি হলে সংঘটিত হেজামারা হামলায় বিজেপি কর্মী ও সাংবাদিকদের উপর যে বর্বরোচিত আক্রমণ হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ড.) মানিক সাহা। বুধবার তিনি আহতদের দেখতে জিবি হাসপাতালে যান এবং তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। ঘটনার কড়া সমালোচনা করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দোষীদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না এবং আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এই ন্যক্কারজনক হেজামারা হামলার পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোড়ন।
হেজামারা হামলার মূল ঘটনা
২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর বেলা প্রায় ১২টা ৩০ মিনিটে হেজামারা কমিউনিটি হলে একটি পোশাক বিতরণ কর্মসূচি আয়োজিত হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানটি শারদ উৎসব উপলক্ষে মহিলাদের জন্য বিজেপি দ্বারা আয়োজিত হয়, যেখানে সাংসদ বিপ্লব কুমার দেবের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
- বিঘ্ন সৃষ্টি: বিজেপি সূত্রে খবর, নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেই, আনুমানিক বেলা ১২টা নাগাদ টিপ্রা মাথার (Tipra Matha) কর্মী ও সমর্থকরা আচমকা অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে।
- আক্রমণের ধরন: হামলাকারীরা হাতে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি নিয়ে কমিউনিটি হলের ভিতরে ঢুকে পড়ে এবং অনুষ্ঠানের জন্য সমবেত হওয়া বিজেপি কর্মীদের উপর আক্রমণ শুরু করে।
- আহতদের বিবরণ: এই হামলায় বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী আহত হন। বিশেষভাবে, বিজেপি কর্মী মঙ্গল দেববর্মা গুরুতর আঘাত পান এবং তার মাথায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, ৫ থেকে ৭ জন কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা যায়, যাদের চিকিৎসার জন্য জিবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
- সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ: কেবল বিজেপি কর্মীই নয়, কর্তব্যরত সাংবাদিকরাও এই হামলার শিকার হন। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তাদেরও শারীরিক হেনস্থার শিকার হতে হয়।
- হামলার উদ্দেশ্য: এই হামলার ফলে অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণভাবে বানচাল হয়ে যায়। বিজেপি নেতৃত্ব অভিযোগ করেছেন যে এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত আক্রমণ ছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল রাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা।
- তদন্তের সূচনা: ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং স্থানীয় এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রাজনৈতিক বিদ্বেষ থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে।
আহতদের দেখতে জিবি হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী: হেজামারা হামলা পরবর্তী পদক্ষেপ
আক্রমণের খবর পাওয়ার পরপরই মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। কিন্তু শুধু নিন্দাতেই থেমে থাকেননি তিনি। আহত কর্মীদের প্রতি সহানুভূতি জানাতে তিনি দ্রুত জিবি হাসপাতালে ছুটে যান।
- হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রীর সফর: বুধবার মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা জিবি হাসপাতালে আহত বিজেপি কর্মী ও অন্যান্যদের দেখতে যান। তিনি তাদের চিকিৎসার সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন এবং নিশ্চিত করেন যে তারা যেন সর্বোত্তম চিকিৎসা পরিষেবা পান।
- কঠোর বার্তা: সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ড. সাহা বলেন, “যারা এই ধরনের সহিংসতা ঘটিয়েছে, তাদের কাউকে ছাড়া হবে না। আইন তার নিজস্ব পথে চলবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা: মুখ্যমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন যে, ত্রিপুরায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য এবং রাজনৈতিক সহিংসতাকে কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এই হেজামারা হামলার নেপথ্যে যারা রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
- রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: এই ঘটনার পর বিজেপি রাজ্য জুড়ে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছে এবং বিরোধী দলের বিরুদ্ধে অগণতান্ত্রিক আচরণের অভিযোগ তুলেছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণতন্ত্রে সহিংসতার কোনো স্থান নেই।
- পুলিশের ভূমিকা: মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে দ্রুততার সঙ্গে দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেদিকে লক্ষ্য রাখা হয়। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে আহত সাংবাদিক ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এই হেজামারা হামলার বিচার নিশ্চিৎ করা হবে।
- জনমনে উদ্বেগ: এই হেজামারা হামলার ঘটনা রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। শান্তিপুর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।
হেজামারা হামলা নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বার্তা
এই বর্বরোচিত আক্রমণের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব টিপ্রা মাথার কর্মীদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অভিযোগ তুলেছে।
- গণতন্ত্রের প্রতি হুমকি: বিজেপি নেতারা এই আক্রমণকে গণতন্ত্রের প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা বলেছেন, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলা চালানো সুস্থ রাজনীতির পরিচায়ক নয়।
- সাংবাদিকদের সুরক্ষা: প্রেস ক্লাব অফ ত্রিপুরা-সহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং কর্তব্যরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে। এই হেজামারা হামলার ফলে রাজ্যের সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
- মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি: মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা পুনর্বার এই হামলার নিন্দা জানিয়ে হেজামারা হামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজ্যে কোনো ধরনের গুন্ডাগিরি বা অরাজকতা চলতে দেওয়া হবে না।
Discover more from RastriyaSamachar24x7
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
Thanks for sharing. I read many of your blog posts, cool, your blog is very good.
Thanks for sharing. I read many of your blog posts, cool, your blog is very good.