ত্রিপুরায় মাদক কারবারিদের উপর আবারও এক বড়সড় আঘাত হানল রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহার নেতৃত্বাধীন ‘নশা মুক্ত ত্রিপুরা’ গড়ার অঙ্গীকারের পথে এই সাফল্য এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করলো। রাজ্যের সীমান্ত লাগোয়া এলাকাগুলিতে পুলিশের সক্রিয় টহলদারি ও কড়া নজরদারির ফলস্বরূপ সম্প্রতি সোনামুড়া থানার পুলিশ এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ শুকনো গাঁজা বাজেয়াপ্ত করেছে। ত্রিপুরা গাঁজা উদ্ধার এর এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে রাজ্য সরকার মাদক বিরোধী অভিযানে কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করছে না এবং এই চোরাচালান চক্রকে নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর। এই অভিযানে প্রায় ৮৪ কিলোগ্রাম (কেজি) গাঁজা বাজেয়াপ্ত করা হয়, যার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য প্রায় ৮.৫ লক্ষ টাকা বলে জানা গেছে। এই বিপুল পরিমাণ মাদকের উৎস ও গন্তব্য খুঁজে বের করতে পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে।
ডুরলভনারায়ণ জঙ্গলে বিপুল ত্রিপুরা গাঁজা উদ্ধার: কোথায়, কখন, কীভাবে?
সোনামুড়া থানার পুলিশ দলের রুটিন টহলদারির সময় এই চাঞ্চল্যকর মাদক বাজেয়াপ্ত হয়। এই উদ্ধারকার্যটি সংঘটিত হয় সিপাহীজলা জেলার অন্তর্গত দুর্লভনারায়ণ (Durlabnarayan) এলাকার একটি গভীর জঙ্গলে। ঘন গাছপালা এবং ঝোপের আড়ালে অত্যন্ত সুকৌশলে মাদকদ্রব্যগুলি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পুলিশের একটি বিশেষ দল নিয়মিত ডিউটি করার সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি বড় প্লাস্টিকের ড্রাম দেখতে পায়, যা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তারা সেটি খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। এই তল্লাশিতেই বেরিয়ে আসে বিপুল পরিমাণ শুকনো গাঁজা।
উদ্ধারের প্রধান দিকগুলি নিম্নরূপ:
- উদ্ধারকারী সংস্থা ও স্থান: এই সফল উদ্ধারকাজটি সম্পন্ন করেছে সোনামুড়া থানার পুলিশ। স্থানটি হলো সিপাহীজলা জেলার অধীনে থাকা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন ডুরলভনারায়ণ জঙ্গল এলাকা। এই এলাকাটি প্রায়শই মাদক পাচারের রুট হিসেবে কুখ্যাত।
- বাজেয়াপ্ত মাদকের পরিমাণ: পুলিশ মোট ৮৪ কিলোগ্রাম শুকনো গাঁজা (Cannabis) বাজেয়াপ্ত করেছে। গাঁজাগুলি দুটি বড় প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে ভরে রাখা ছিল।
- আনুমানিক বাজারমূল্য: বাজেয়াপ্ত হওয়া এই বিপুল মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮.৫ লক্ষ টাকা। উল্লেখ্য, এই পরিমাণ গাঁজা পাচার হলে তা বহু যুব সমাজকে বিপথে চালিত করতে পারত।
- উদ্ধারের তারিখ: এই গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপুরা গাঁজা উদ্ধার অভিযানটি পরিচালিত হয় ২০২৩ সালের ০৩ নভেম্বর।
- আইনি প্রক্রিয়া: সোনামুড়া থানার অফিসার-ইন-চার্জ (OC) তাপস দাস নিশ্চিত করেছেন যে, সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা মেনেই বাজেয়াপ্ত করার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
- পরিত্যক্ত অবস্থা: উদ্ধার হওয়া গাঁজাগুলি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি, কারণ মাদকগুলি সম্ভবত পাচারের জন্য অপেক্ষা করছিল।
তদন্ত শুরু, মাদক চক্রের সন্ধানে সোনামুড়া পুলিশের বিশেষ নজর ত্রিপুরা গাঁজা উদ্ধার (Officer’s Statement)
এই বিপুল পরিমাণ ত্রিপুরা গাঁজা উদ্ধার এর ঘটনার পর সোনামুড়া থানার পুলিশ প্রধান, অফিসার-ইন-চার্জ (OC) তাপস দাস সংবাদমাধ্যমকে এই সাফল্যের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের টহলদারি দল নিয়মিত ডিউটি করার সময় এই মাদক উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া মেনেই বাজেয়াপ্ত করার কাজ সম্পন্ন হয়।
ওসি তাপস দাসের বক্তব্য অনুযায়ী তদন্তের মূল বিষয়গুলি হলো:
- উদ্ধার হওয়া গাঁজা পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং বর্তমানে কেউ এর মালিকানা দাবি করেনি।
- অবিলম্বে এই মামলার তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং এই অবৈধ গাঁজার উৎস ও গন্তব্য চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
- তদন্তের মূল লক্ষ্য হল— এই অবৈধ গাঁজার প্রকৃত মালিক কে এবং কারা এই চোরাচালান চক্রের সঙ্গে যুক্ত, তা খুঁজে বের করা এবং তাদের আইনের আওতায় আনা।
- এই চোরাচালান চক্রটি সীমান্তের ওপার থেকে না কি রাজ্যের অভ্যন্তর থেকে কাজ করছিল, সে বিষয়ে বিশদ তথ্য সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন সোর্স থেকে তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
- ওসি আরও জানান, স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য এবং পুলিশের নিজস্ব ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে মাদক চক্রের গতিবিধি বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে।
‘নশা মুক্ত ত্রিপুরা’ অভিযানে ত্রিপুরা গাঁজা উদ্ধার এর গুরুত্ব
মাদক মুক্ত ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের ‘নশা মুক্ত ত্রিপুরা’ অভিযান একটি বড় অগ্রাধিকার। সম্প্রতি রাজ্য জুড়ে একাধিক বড় ধরনের মাদক বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা প্রমাণ করে রাজ্য পুলিশের তৎপরতা ও দৃঢ়তা বহুগুণে বেড়েছে। শুধু গাঁজা নয়, নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ (যেমন EsKuf) এবং অন্যান্য রাসায়নিক মাদকের বিরুদ্ধেও নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজ্যের সীমান্তবর্তী ভৌগোলিক অবস্থান মাদক কারবারিদের জন্য একটি সহজ রুট তৈরি করে। কিন্তু, পুলিশের কঠোর নজরদারি এবং তথ্য-নির্ভর অপারেশন এই পাচার রুটে বড় বাধা সৃষ্টি করছে। প্রতিটি ত্রিপুরা গাঁজা উদ্ধার অভিযান মাদক চক্রকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করে তুলছে।
- সমাজকে সুরক্ষিত রাখা: সময়মতো এই ত্রিপুরা গাঁজা উদ্ধার হওয়ায় একটি বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হলো। এই সাফল্য জনজীবনে শান্তি বজায় রাখতে এবং যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহ কবল থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
- জনসংযোগের গুরুত্ব: জনসাধারণ এবং পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপন এই অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া শুধুমাত্র পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে ‘নশা মুক্ত ত্রিপুরা’ গঠন করা সম্ভব নয়।
- নাগরিকদের প্রতি আহ্বান: পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে যে, মাদক সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে তা যেন অবিলম্বে পুলিশকে জানানো হয়। এই জনসচেতনতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই প্রতিটি ত্রিপুরা গাঁজা উদ্ধার প্রচেষ্টা চূড়ান্ত সফলতা পাবে।
এই ঘটনায় জড়িত সকলের দ্রুত গ্রেফতারের মাধ্যমে চোরাচালান চক্রের মূলে আঘাত হানাই এখন সোনামুড়া পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। ত্রিপুরা গাঁজা উদ্ধার সংক্রান্ত এই সাফল্য মাদক বিরোধী যুদ্ধে এক গুরুত্বপূর্ণ জয়।
Discover more from RastriyaSamachar24x7
Subscribe to get the latest posts sent to your email.