নেক্সট-জেন জিএসটি

মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহার চোখে ‘নেক্সট-জেন জিএসটি’—বিকশিত ভারতের সোপান

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা সম্প্রতি নেক্সট-জেন জিএসটি-কে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে এক সাহসী ও যুগান্তকারী সংস্কার হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, এটি এমন একটি পদক্ষেপ যা ভারতের ইতিহাসে এর আগে কোনো সরকার নেওয়ার সাহস দেখায়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের এই ঐতিহাসিক সংস্কার দেশকে ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত ও বিকশিত রাষ্ট্রে পরিণত করার দিশা দেখাবে।

মুখ্যমন্ত্রী ডঃ সাহা এই মন্তব্যটি করেন আগরতলার ৮-টাউন বারদোয়ালি মণ্ডলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত একটি বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে। এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তিনি যেমন একদিকে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা তুলে ধরেন, তেমনই অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে ত্রিপুরার ভূমিকা ও দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেন।

উপস্থিত ছিলেন আগরতলা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের মেয়র দীপক মজুমদার, ত্রিপুরা রাজ্য মহিলা কমিশনের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মধুমিতা চৌধুরী এবং অসীম ভট্টাচার্য-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।


মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য: নেক্সট-জেন জিএসটি এবং সাহস

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় তাৎপর্যের উপর আলোকপাত করেন, যার পাশাপাশি তিনি সরাসরি অর্থনৈতিক সংস্কারের মূল বিষয়ে আসেন।

  • ঐতিহাসিক সংস্কারের সূচনা: মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ২২শে সেপ্টেম্বর নেক্সট-জেন জিএসটি চালু করা হয়। তিনি এটিকে একটি যুগান্তকারী সংস্কার হিসেবে অভিহিত করেন।
  • সাহসী পদক্ষেপের স্বীকৃতি: তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “এটি একটি সাহসী পদক্ষেপ, যা এর আগে কোনো সরকার নেওয়ার সাহস দেখায়নি।” এই মন্তব্য জিএসটি-এর পরবর্তী প্রজন্মকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের দৃঢ় সংকল্পকে প্রতিফলিত করে।
  • বিকশিত ভারতের রোডম্যাপ: ডঃ সাহা জোর দিয়ে বলেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার যে রোডম্যাপ তৈরি করেছেন, এই নেক্সট-জেন জিএসটি তারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি দেশকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

ত্রিপুরায় উন্নয়নের জোয়ার: মন্দির ও পর্যটন

মুখ্যমন্ত্রী নেক্সট-জেন জিএসটি-এর পাশাপাশি তাঁর সরকারের অধীনে রাজ্যের চলমান রূপান্তর এবং উন্নয়নের কাজগুলিও তুলে ধরেন। এই উন্নয়ন রাজ্যের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।

  • ত্রিপুরার ধর্মীয় গুরুত্ব: তিনি উল্লেখ করেন, ৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক সফর রাজ্যে আরও বেশি সংখ্যক ভক্তকে আকৃষ্ট করবে।
  • ‘প্রসাদ’ প্রকল্পের প্রভাব: ডঃ সাহা ঘোষণা করেন যে ‘প্রসাদ’ প্রকল্পের অধীনে এই মন্দিরের পুনর্গঠন ও উন্নয়ন চলছে। এই উন্নয়নমূলক কাজের ফলে তীর্থযাত্রীর সংখ্যা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা রাজ্যের পর্যটন খাত ও অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
  • সাংস্কৃতিক ঐক্য ও উৎসব: দুর্গাপূজার প্রাক্কালে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের জনগণকে শুভেচ্ছা জানান এবং নাগরিকদের মধ্যে ঐক্য ও সাংস্কৃতিক গর্বের উপর জোর দেন।

ভবিষ্যতের রূপরেখা: নেক্সট-জেন জিএসটি-এর মাধ্যমে ২০৪৭-এর লক্ষ্য

মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহার বক্তব্যের সারমর্ম ছিল—ত্রিপুরার উন্নয়ন এবং বৃহত্তর জাতীয় অর্থনৈতিক সংস্কার পরস্পরের পরিপূরক।

  • জাতীয় প্রবৃদ্ধির হাতিয়ার: নেক্সট-জেন জিএসটি শুধু কর ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী ডিজিটাল অর্থনৈতিক পরিকাঠামো তৈরির ভিত্তি, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের প্রতিটি রাজ্যের পাশাপাশি ত্রিপুরার ব্যবসাবাণিজ্যকেও সুবিধা দেবে।
  • সুবিধাভোগী ও নাগরিক: এই উন্নত ব্যবস্থা কর ফাঁকি কমাতে, রাজস্ব বৃদ্ধি করতে এবং ব্যবসা করার সহজতা বাড়াতে সাহায্য করবে। এর প্রত্যক্ষ সুবিধা শেষ পর্যন্ত সাধারণ নাগরিকেরই প্রাপ্য হবে।

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে কেবল একটি রাজনৈতিক বার্তা দেননি, বরং তিনি দেশের একটি বড় অর্থনৈতিক পদক্ষেপকে রাজ্যের প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করে জনমানসে এক ইতিবাচক ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। নেক্সট-জেন জিএসটি-কে তিনি শুধু একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে নয়, বরং একটি জাতীয় স্বপ্ন পূরণের অনুঘটক হিসেবে দেখছেন।

SHARE

Discover more from RastriyaSamachar24x7

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *