প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ৭১তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে, বিদ্যা বিনোদ চোপড়ার বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘১২তম ফেল’ (12th Fail) সেরা ফিচার ফিল্মের জন্য জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছে। এই সম্মানজনক পুরস্কারটি চলচ্চিত্রটির পরিচালক এবং প্রযোজক বিদ্যা বিনোদ চোপড়া স্বয়ং ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে গ্রহণ করেন। এটি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে একটি নতুন এবং উজ্জ্বল অধ্যায় যোগ করেছে। এই অসাধারণ অর্জন, ১২তম ফেল জাতীয় পুরস্কার, চলচ্চিত্রটির পুরো টিমের কঠোর পরিশ্রম এবং প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ।
সিনেমার মূল বিষয়বস্তু: মনোজ কুমার শর্মার জীবন
‘১২তম ফেল’ ছবিটি একজন বাস্তব জীবনের আইপিএস অফিসার মনোজ কুমার শর্মার জীবন কাহিনীর উপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে। মনোজ কুমার শর্মা তার চরম দারিদ্র্য এবং ব্যর্থতাকে জয় করে কীভাবে একজন সফল পুলিশ অফিসার হিসেবে নিজের স্বপ্ন পূরণ করেন, তার এই অনুপ্রেরণামূলক কাহিনী দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। বিক্রান্ত মেসি, যিনি মনোজের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, তার অনবদ্য অভিনয় দক্ষতা সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এছাড়াও ছবিতে মেধা শংকর এবং অনন্ত ভি যোশীর অভিনয়ও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
জাতীয় পুরস্কারে অন্য উল্লেখযোগ্য সাফল্য
শুধু সেরা ফিচার ফিল্ম নয়, ‘১২তম ফেল’ জাতীয় পুরস্কারের পাশাপাশি আরও অনেক সম্মান অর্জন করেছে। বিক্রান্ত মেসি এই ছবিতে তার অসাধারণ অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন, যা তিনি ‘জওয়ান’ ছবির জন্য শাহরুখ খানের সাথে ভাগ করে নেন। একটি প্রেস বিবৃতিতে বিক্রান্ত মেসি তার এই পুরস্কার “প্রান্তিক মানুষের” প্রতি উৎসর্গ করেছেন, যা তার মানবিক দিকটি তুলে ধরেছে।
ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে ‘১২তম ফেল’ এর দাপট
জাতীয় পুরস্কার ছাড়াও, ‘১২তম ফেল’ ৬৯তম ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার জিতে নিয়েছিল। এই পুরস্কারগুলি হলো:
- সেরা পরিচালক (বিদ্যা বিনোদ চোপড়া)
- সেরা চলচ্চিত্র
- সেরা অভিনেতা (বিক্রান্ত মেসি) (ক্রিটিক্স)
এই তিনটি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড এবং বর্তমান ১২তম ফেল জাতীয় পুরস্কার, চলচ্চিত্রটির সাফল্যের চূড়ান্ত প্রমাণ।
মানুষের ভালোবাসায় ১২তম ফেল
মুক্তির পর থেকেই, ‘১২তম ফেল’ চলচ্চিত্রটি শুধুমাত্র সমালোচকদের প্রশংসা লাভ করেনি, বরং দর্শকদের বিপুল ভালোবাসা এবং সমর্থনও অর্জন করেছে। মনোজ কুমার শর্মার বাস্তব জীবনের এই গল্পটি লক্ষ লক্ষ মানুষকে কঠিন সময়েও হাল না ছাড়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। এই ছবিটি প্রমাণ করে যে, একটি ভালো গল্প এবং সৎভাবে নির্মিত একটি চলচ্চিত্র শুধু বক্স অফিসে সাফল্যই নয়, দর্শকদের মনেও চিরস্থায়ী জায়গা করে নিতে পারে। এই ১২তম ফেল জাতীয় পুরস্কার সেই ভালোবাসারই প্রতিচ্ছবি।
২০২৩ সালের সেরা ভারতীয় সিনেমা
৭১তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠানে মূলত ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সেরা ভারতীয় চলচ্চিত্রগুলিকে সম্মান জানানো হয়েছে। এই পুরস্কারগুলি ভারতের বিভিন্ন ভাষার সিনেমার শ্রেষ্ঠ কাজগুলিকে স্বীকৃতি দেয় এবং নির্মাতাদের উৎসাহ যোগায়। এই বছরের বিজয়ীদের তালিকায় ‘১২তম ফেল’ এর নাম শীর্ষে থাকাটা ভারতীয় সিনেমার জন্য একটি গর্বের বিষয়।
শিক্ষাব্যবস্থা এবং সমাজের প্রতি ইতিবাচক বার্তা
‘১২তম ফেল’ চলচ্চিত্রটি শুধু মনোরঞ্জনই নয়, বরং ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থা এবং সমাজের বিভিন্ন দিক নিয়েও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। এটি দেখিয়েছে যে, শুধু মাত্র নম্বর বা পরীক্ষার ফলাফলই একজন মানুষের জীবনের চূড়ান্ত নির্ধারক নয়, বরং জীবনের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার ক্ষমতা এবং জেদই একজন মানুষকে সাফল্য এনে দিতে পারে। এই ১২তম ফেল জাতীয় পুরস্কার অনেক তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
এক অনুপ্রেরণামূলক গল্প
মনোজ কুমার শর্মার জীবনে ১২তম ফেল বা দশম ফেল হওয়াটা তার স্বপ্নের পথে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। তার অদম্য ইচ্ছা এবং পরিশ্রম তাকে একজন সফল আইপিএস অফিসার হতে সাহায্য করেছে। এই ছবিটি সেই সমস্ত মানুষের জন্য একটি অনুপ্রেরণা, যারা জীবনে বারবার ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছেন কিন্তু হাল ছাড়তে রাজি নন।
বিদ্যা বিনোদ চোপড়ার দূরদর্শিতা
পরিচালক বিদ্যা বিনোদ চোপড়া এমন একটি গল্প নির্বাচন করেছেন, যা ভারতীয় দর্শকদের হৃদয়ের খুব কাছাকাছি। তার দূরদর্শিতা এবং গল্পের প্রতিটি ছোট ছোট দিককে সুচারুভাবে ফুটিয়ে তোলার ক্ষমতা ‘১২তম ফেল’ কে একটি ক্লাসিক চলচ্চিত্রে পরিণত করেছে। ১২তম ফেল জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্তি তার এই দূরদর্শিতারই একটি ফল।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক
‘১২তম ফেল’ চলচ্চিত্রটি কেবল একটি পুরস্কার জয়ী ছবি নয়, এটি ভবিষ্যতের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য একটি উদাহরণও স্থাপন করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, ভালো এবং অর্থপূর্ণ গল্প এখনো দর্শকদের কাছে অনেক বেশি মূল্যবান। এই ১২তম ফেল জাতীয় পুরস্কার ভারতীয় চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করে তুলবে।
সিনেমা এবং জীবনের গল্প
সর্বোপরি, ‘১২তম ফেল’ সিনেমাটি একটি সরল কিন্তু শক্তিশালী বার্তা দেয় – জীবন একটি পরীক্ষা, যেখানে কোনো ফেল বা পাশ বলে কিছু নেই, শুধু মাত্র শেখার এবং এগিয়ে চলার সুযোগ থাকে। এই ১২তম ফেল জাতীয় পুরস্কার চলচ্চিত্রটি সেই বার্তাটিকেই আবারও প্রতিষ্ঠিত করল।
পুরস্কার প্রদান: এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করা বিদ্যা বিনোদ চোপড়ার জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত ছিল। এটি শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং পুরো ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত। ১২তম ফেল জাতীয় পুরস্কার এই শিল্পের প্রতিটি মানুষকে আরও ভালো কাজ করার প্রেরণা দেবে।
সাফল্যের সংজ্ঞা
‘১২তম ফেল’ ছবিটি সাফল্যের একটি নতুন সংজ্ঞা দিয়েছে, যেখানে সাফল্য মানে শুধু বক্স অফিসের আয় নয়, বরং সমাজের উপর তার ইতিবাচক প্রভাব। ১২তম ফেল জাতীয় পুরস্কার এর জন্য এই ছবিটি সত্যিই উপযুক্ত।
সিনেমাটির প্রভাব
এই সিনেমাটি লক্ষ লক্ষ মানুষের মনে গেঁথে গেছে এবং জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সাহস জুগিয়েছে।
Discover more from RastriyaSamachar24x7
Subscribe to get the latest posts sent to your email.