ত্রিপুরায় মানবাধিকার লঙ্ঘন

ত্রিপুরায় রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে কংগ্রেসের কড়া অবস্থান!

ত্রিপুরা রাজ্য রাজনীতিতে আবারও উত্তাপ। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মানবাধিকারের সুরক্ষা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের আইন, মানবাধিকার ও আরটিআই বিভাগ (Law, Human Rights & RTI Department) রাজ্য মানবাধিকার কমিশন (Tripura Human Rights Commission – THRC)-এর কাছে একটি জোরালো স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। এই স্মারকলিপিতে স্পষ্টভাবে অভিযোগ করা হয়েছে যে ২০১৮ সালে রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ত্রিপুরায় মানবাধিকার লঙ্ঘন–এর একাধিক ঘটনা ঘটলেও কমিশন সেগুলির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

দলটির পক্ষ থেকে প্রাশান্ত সেন চৌধুরী, যিনি বিভাগের আহ্বায়ক এবং একজন প্রবীণ অ্যাডভোকেট, স্বাক্ষরিত এই স্মারকলিপিতে কমিশনের “নিষ্ক্রিয়তা ও উদাসীনতা”-কে আরও বেশি লঙ্ঘনের জন্য একটি নীরব সমর্থন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কংগ্রেস কার্যত THRC-কে ১৫ দিনের চরমপত্র দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কমিশন উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে রাজ্যজুড়ে “বিপ্লবী আন্দোলন” শুরু করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

ত্রিপুরায় মানবাধিকার লঙ্ঘন–এর প্রধান অভিযোগগুলির তালিকা

স্মারকলিপিতে ২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে ২০২৩ সালের মধ্যে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, যা ত্রিপুরায় মানবাধিকার লঙ্ঘন–এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কংগ্রেসের দাবি, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সাংবাদিক, কেউই এখন রাজ্যে সুরক্ষিত নয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখিত প্রধান ঘটনা এবং অভিযোগগুলি নিম্নরূপ:

  • সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা:
    • ২০২৪ সালের ৬ থেকে ৭ অক্টোবর কদমতলা এলাকায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগ, এই সহিংসতায় একজন মুসলিম ব্যবসায়ী নিহত হন এবং ব্যাপক অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরেও নজর কেড়েছিল।
  • কাস্টোডিয়াল টর্চার এবং মৃত্যু:
    • ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর বাদুল ত্রিপুরা নামে এক ব্যক্তির কাস্টোডিয়াল মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। বাদুল ত্রিপুরার পরিবার পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন তাঁকে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মীকে আটকও করা হয়েছিল।
  • গণপিটুনি ও দাঙ্গা:
    • ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ধলাই জেলার গন্ডা টুইসা এলাকায় ঘটে যাওয়া সহিংসতা, যেখানে একজন উপজাতি যুবকের মৃত্যুর পর গণপিটুনি এবং অগ্নিসংযোগের একটি ঢেউ আছড়ে পড়েছিল, সেটিরও উল্লেখ করা হয়েছে।
  • চিকিৎসা পরিষেবাতে গাফিলতি:
    • আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ এবং জিবি পন্থ হাসপাতালে (Agartala Government Medical College & GB Pant Hospital) চিকিৎসার ক্ষেত্রে গাফিলতির একাধিক অভিযোগ তোলা হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়া বা চিকিৎসায় দেরি হওয়ার কারণে বেশ কয়েকজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে, যা একটি মৌলিক মানবিক অধিকারের লঙ্ঘন। ২০২৩ সালের মে মাসে এই অভিযোগগুলি নিয়ে THRC একটি তদন্ত শুরু করলেও তার ফলপ্রসূতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
  • অন্যান্য গুরুতর অভিযোগ:
    • সাংবাদিকদের উপর বারবার আক্রমণ এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা।
    • সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর চলা অত্যাচার এবং সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী নাগরিকদের উপর বিধিনিষেধ আরোপ।
    • সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সময় কর্তৃপক্ষের দ্বারা বারবার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া।
    • মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের হার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া, যা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন এঁকে দিয়েছে।

ত্রিপুরায় মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে কংগ্রেসের কড়া দাবি ও চরমপত্র

ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে THRC অবিলম্বে উল্লিখিত সবকটি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করুক। তাদের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • যেখানে অপরাধ প্রমাণিত হবে, সেখানে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
  • সংক্ষুব্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে দ্রুত ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
  • রাজ্যে যাতে ভবিষ্যতে আর ত্রিপুরায় মানবাধিকার লঙ্ঘন–এর ঘটনা না ঘটে, সেই জন্য কমিশনকে সক্রিয় ও কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।

এই স্মারকলিপিটিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যদি কমিশন আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই দাবিগুলির প্রেক্ষিতে কোনো “উপযুক্ত পদক্ষেপ” না নেয়, তবে রাজ্য জুড়ে কংগ্রেস এক “ঝোড়ো বিপ্লবী আন্দোলন” শুরু করবে। এই হুমকি শাসক দলের উপর চাপ বাড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে THRC বা রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। শাসক দল বিজেপির রাজ্য ইউনিটের প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা চলছে।

SHARE

Discover more from RastriyaSamachar24x7

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

One thought on “ত্রিপুরায় রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে কংগ্রেসের কড়া অবস্থান!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *