ত্রিপুরা ই-কেওয়াইসি

পিডিএস-এ বিস্ময়কর অগ্রগতি: প্রায় ৪৯.৩৬% ত্রিপুরা ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন, স্মার্ট কার্ড বিতরণ তুঙ্গে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে ত্রিপুরা Public Distribution System (PDS)-কে ডিজিটালাইজ করার ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক স্থাপন করেছে। রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য বৃহত্তর স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল পরিষেবা নিশ্চিত করতে সরকার একটি ব্যাপক ই-কেওয়াইসি (e-KYC) প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। সম্প্রতি রাজ্য খাদ্য, অসামরিক সরবরাহ ও ক্রেতা বিষয়ক দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে যে, গত ৩১ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত প্রায় ৪৯.৩৬ শতাংশ ত্রিপুরা ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এটি রাজ্যের ডিজিটাল ক্ষেত্রে একটি বড় সাফল্য

এই প্রক্রিয়াটি রাজ্যের মোট ২,০৭২টি ন্যায্য মূল্যের দোকানের মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। দপ্তরের আধিকারিকদের মতে, যাচাই করা সুবিধাভোগীদের প্রায় ৯৯.৯৯ শতাংশই ইতিমধ্যেই তাদের অত্যাধুনিক পিভিসি (PVC) স্মার্ট রেশন কার্ড হাতে পেয়ে গেছেন। এই ডিজিটাল কার্ডগুলি শুধু কাগজপত্রের বোঝা কমায়নি, বরং বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও সুরক্ষিত করেছে।

পিডিএস-এর স্বচ্ছতায় ত্রিপুরা ই-কেওয়াইসির ভূমিকা

খাদ্য, অসামরিক সরবরাহ ও ক্রেতা বিষয়ক দপ্তরের অধিকর্তা সুমিত লোধ এই বিষয়ে বিশদ তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যের মোট ৯,৮৬,৭৩৩ জন রেশন কার্ড ধারকের মধ্যে প্রায় ৪,৮৭,০৫০ জনের ত্রিপুরা ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৪,৮৭,০২১ জন উপভোক্তা নিজেদের পিভিসি স্মার্ট কার্ড গ্রহণ করেছেন। এই সংখ্যাটি ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন হওয়া উপভোক্তাদের প্রায় ৯৯.৯৯ শতাংশ।

অধিকর্তা লোধ জোর দিয়ে বলেছেন যে, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অপব্যবহার রোধ করাই ত্রিপুরা ই-কেওয়াইসির প্রধান লক্ষ্য। এই ডিজিটাল কার্ডগুলি ন্যায্য মূল্যের দোকানে সরবরাহ করা পিওএস (PoS) মেশিনে সোয়াইপ করার সঙ্গে সঙ্গেই সংযুক্ত কেন্দ্রীয় ডেটাবেসে তথ্য আপডেট করে, ফলে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ সম্ভব হচ্ছে।

দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যাপক অভিযানের প্রধান পরিসংখ্যানগুলি নিম্নরূপ:

  • মোট রেশন কার্ড ধারক: ৯,৮৬,৭৩৩ জন।
  • ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন উপভোক্তা: ৪,৮৭,০৫০ জন।
  • পিভিসি স্মার্ট কার্ড প্রাপ্তি: ৪,৮৭,০২১ জন (যা ই-কেওয়াইসি সম্পন্নদের মধ্যে ৯৯.৯৯ শতাংশ)।
  • কার্যকরী ন্যায্য মূল্যের দোকান: ২,০৭২টি।

জেলা ভিত্তিক অগ্রগতি ও ত্রিপুরা ই-কেওয়াইসির চিত্র

রাজ্যের আটটি জেলাতেই এই ডিজিটাল প্রক্রিয়া চলছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকেও ডিজিটাল ব্যবস্থার অধীনে নিয়ে আসতে প্রশাসন নিরন্তর কাজ করছে। জেলায় জেলায় ত্রিপুরা ই-কেওয়াইসির অগ্রগতি নিম্নরূপ:

  • পশ্চিম ত্রিপুরা: ২,৫০,১১২ জনের মধ্যে ১,৩৩,৮৫১ জনের ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন হয়েছে।
  • দক্ষিণ ত্রিপুরা: ১,১৩,৯২৭ জনের মধ্যে ৫৬,৭৭৩ জনের কাজ শেষ।
  • ধলাই: ১,০৭,৭৪১ জনের মধ্যে ৫০,৭১১ জনের।
  • উত্তর ত্রিপুরা: ১,০৪,০১৪ জনের মধ্যে ৪৬,৫০৩ জনের।
  • গোমতী: ১,১৮,৯১০ জনের মধ্যে ৫৭,০২৬ জনের।
  • খোয়াই: ৯১,৪৪৮ জনের মধ্যে ৪৮,৯২৯ জনের।
  • সিপাহিজলা: ১,২৪,৩৪৫ জনের মধ্যে ৫৭,৯৭৪ জনের।
  • ঊনকোটি: ৭৬,২৩৬ জনের মধ্যে ৩৫,২৮৩ জনের।

এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে যে রাজ্যের প্রায় অর্ধেক জনগণ ত্রিপুরা ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ডিজিটাল সুবিধার আওতায় এসেছেন।

উত্তর-পূর্বের পথিকৃৎ: মডেল শপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

অধিকর্তা লোধ গর্বের সঙ্গে জানিয়েছেন, ত্রিপুরা হল উত্তর-পূর্বের প্রথম রাজ্য যারা পিভিসি রেশন কার্ড চালু করেছে এবং এগুলি ব্যবহারের জন্য পিওএস (PoS) মেশিন নিয়ে এসেছে। এই উদ্ভাবনী পদক্ষেপ ত্রিপুরার পিডিএসকে আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।

প্রথম ধাপে ৪.৮৭ লক্ষ সুবিধাভোগীকে পিভিসি কার্ড দেওয়ার পর, বাকি সুবিধাভোগীদের জন্যও ত্রিপুরা ই-কেওয়াইসি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যদিও এই ব্যাপক প্রক্রিয়ায় কিছু বিলম্ব হচ্ছে, তবে এর পিছনে মূল কারণগুলিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে:

  • আধার কার্ড সংক্রান্ত সমস্যা: অনেক উপভোক্তার আধার ডেটা বা লিঙ্কিং-এ ত্রুটি রয়েছে।
  • ঠিকানা যাচাইকরণ: বহু ক্ষেত্রে উপভোক্তাদের বর্তমান ঠিকানা যাচাইয়ে সমস্যা হচ্ছে।
  • স্থান পরিবর্তন: কিছু উপভোক্তা স্থান পরিবর্তন করায় তাদের ডেটা আপডেট করা কঠিন হচ্ছে।

দপ্তর জানিয়েছে যে পরবর্তী পর্যায়গুলিতে বাকি সুবিধাভোগীদেরও দ্রুত কভার করা হবে এবং রাজ্যের সমস্ত নাগরিককে এই ডিজিটাল সুবিধার আওতায় আনা হবে।

এছাড়াও, ডিজিটাল ব্যবস্থার পাশাপাশি সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকেও নজর দিচ্ছে। মোট ২,০৭২টি সরকারি ন্যায্য মূল্যের দোকানের মধ্যে প্রায় ৬০০টিকে ‘মডেল আউটলেট’-এ রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই মডেল আউটলেটগুলি কেবল আধুনিক সুবিধা দেবে না, বরং ত্রিপুরা ই-কেওয়াইসির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে PDS ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। এই পদক্ষেপ রাজ্যের জনসাধারণের জীবনে বিরাট ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।

SHARE

Discover more from RastriyaSamachar24x7

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

One thought on “পিডিএস-এ বিস্ময়কর অগ্রগতি: প্রায় ৪৯.৩৬% ত্রিপুরা ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন, স্মার্ট কার্ড বিতরণ তুঙ্গে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *