রোখিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র

ADB-র বিপুল অর্থানুকূল্যে দ্বিগুণ হচ্ছে রোখিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র-এর উৎপাদন ক্ষমতা

ত্রিপুরার বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB)-এর বিপুল অর্থানুকূল্যে আগরতলা সংলগ্ন রোখিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র-এর উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজ্যের বিদ্যুৎ দপ্তর সূত্রে খবর, এই প্রকল্পের মাধ্যমে রোখিয়া প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ উৎপাদন ৬০ মেগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ১২০ মেগাওয়াট করা হবে, যা রাজ্যের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এই যুগান্তকারী উন্নয়নের মূল বিষয়গুলি নিম্নরূপ:

  • বিপুল আর্থিক সহায়তা: বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির এই প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) মোট ১,১১৯.৩০ কোটি টাকা অর্থ মঞ্জুর করেছে। এই বিপুল বিনিয়োগ প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।
  • উন্নত প্রযুক্তি: বর্তমান প্ল্যান্টকে কম্বাইন্ড সাইকেল গ্যাস টারবাইন (CCGT) সিস্টেমে উন্নীত করা হবে, যা গ্যাসের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দক্ষতা বৃদ্ধি করবে এবং পরিবেশবান্ধব হবে।
  • সফল টেন্ডার প্রক্রিয়া: প্রকল্পের জন্য টেন্ডারিং প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং মেগা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড (MEIL)-কে বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

রোখিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র-এর উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ করার প্রস্তুতি

রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথ একচেটিয়াভাবে জানিয়েছেন যে, রোখিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র-এ কম্বাইন্ড সাইকেল গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর জন্য এই মাসেই শুভ ভূমি পূজন অনুষ্ঠিত হবে। ভূমি পূজনের পর দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন:

  • উচ্চ পর্যায়ের পরিদর্শন: টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর, একটি উচ্চ-স্তরের প্রতিনিধি দল রোখিয়া প্ল্যান্ট পরিদর্শন করবেন।
  • লক্ষ্য: এই প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো প্ল্যান্টের বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা ৬০ মেগাওয়াট থেকে সরাসরি ১২০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা।

রোখিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র-এর অতীত চ্যালেঞ্জ ও বর্তমান অগ্রগতি

বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথ রোখিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র-এর ঐতিহাসিক বিবর্তনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তাঁর কথায়, এই কেন্দ্রটি বিভিন্ন সময়ে বহু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে:

  • শুরুর দিনগুলি: ২০০২ সালে প্ল্যান্টটিতে সাতটি জেনারেটিং ইউনিট ছিল। পরে ২০০৬ সালে আটটি এবং ২০১৩ সালে তা নয়টিতে উন্নীত হয়।
  • ক্ষমতায় আসার সময়: বিজেপি-নেতৃত্বাধীন সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন প্ল্যান্টের মাত্র তিনটি ইউনিট চালু ছিল এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল মাত্র ৪০ মেগাওয়াট। ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত এই মাত্রা বজায় ছিল।
  • গ্যাস সরবরাহের সমস্যা: পরবর্তীকালে ওএনজিসি (ONGC)-এর গ্যাস সরবরাহ ব্যর্থতার কারণে উৎপাদন আরও কমে যায়, যা রাজ্যকে বিদ্যুৎ সঙ্কটের মুখে ফেলেছিল।

এই ঐতিহাসিক পটভূমির পরিপ্রেক্ষিতে, বর্তমান ১২০ মেগাওয়াট লক্ষ্যমাত্রা রাজ্যের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আনতে একটি বিশাল জয়।

ভবিষ্যতের শক্তি: নবায়নযোগ্যতার দিকে ত্রিপুরার দৃষ্টি

ভূগর্ভস্থ গ্যাস মজুত কমে আসায় রাজ্য সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে মনোনিবেশ করেছে। মন্ত্রী জানান, গ্যাসভিত্তিক প্ল্যান্টের উন্নয়নের পাশাপাশি সৌর ও জলবিদ্যুৎকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

ত্রিপুরার নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পগুলির উল্লেখযোগ্য দিকগুলি হলো:

  • PM-KUSUM প্রকল্পে শীর্ষস্থান: সৌরশক্তির সফল বাস্তবায়নের জন্য ত্রিপুরা প্রধানমন্ত্রী-কুসুম (PM-KUSUM) প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশের শীর্ষ রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
  • জলবিদ্যুৎ প্রকল্প: সরকার বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
  • হাইড্রোজেন হাব: ডুম্বুর জলাধারে একটি হাইড্রোজেন হাব তৈরি করার পরিকল্পনাও রয়েছে, যা ভবিষ্যতের জ্বালানি ক্ষেত্রে রাজ্যের অগ্রগামী ভূমিকার ইঙ্গিত দেয়।

সব মিলিয়ে, ADB-র আর্থিক সহায়তায় রোখিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র-এর আধুনিকীকরণ ত্রিপুরার বিদ্যুতের ভবিষ্যতকে কেবল সুরক্ষিতই করবে না, বরং রাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও নতুন গতি আনবে। এই প্রকল্পটি রাজ্যের নাগরিকদের জন্য এক স্থিতিশীল এবং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের বার্তা বহন করে এনেছে।

SHARE

Discover more from RastriyaSamachar24x7

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *